kha_tare_job

জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে খালেদা–তারেকের যত ভাবনা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়েরপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ‘আপোষহীন নেত্রী‘ ও তারেক ইস্যুতে আবারও কি দলটি ভোটযুদ্ধের ময়দান থেকে দূরে সরে যাবে ? অর্থাৎ আগামী নির্বাচন কী বিএনপি বর্জন করতে যাচ্ছে ? জাতীয় রাজনীতির অন্দরমহল থেকে পর্যবেক্ষক মহল সবখানে এখন প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

লন্ডনে নির্বাসিত বিএনপির প্রতাপশালী নেতা পূত্র তারেক রহমানের কাছে তিন মাস থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিপুল নেতাকর্মীর স্বতস্ফুর্ত অভ্যর্থনা পেয়েছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গেলে পথে পথে সমর্থকদের ঢল নেমেছে ,সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে গেলে লাখো জনতার জনস্রোত দেখেছেন কিন্ত জিয়া আরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবী করলেও পর্যবেক্ষকদের মতে সেই দন্ড তার চোখের সামনে ঝুলছে, যা তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করবে।

এই আশংঙ্কা সব মহলে আলোচিত হচ্ছে এমনকি বেগম খালেদা জিয়া ও নির্বাসিত পুত্র তারেক রহমান ভোট যুদ্ধে অযোগ্য ঘোষিত হলে মরহুম রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা পুত্র বধু সাবেক নৌবাহিনীর প্রধান ডা. জোবাইদা রহমান দলের হাল ধরবেন, ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন এমন আলোচনা জোরেসরে বইছে। কিন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়েরপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহনের যোগ্যতা হারাবেন কিনা তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে আগামী নির্বাচনে তার ‘আপোষহীন নেত্রীর’ চ্যালেঞ্জ ও মর্যদার লড়াই।

সেনাশাসক এরশাদের ৮৬ সালের নির্বাচন বর্জন করে খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রীর ইমেজ অর্জন করেছিলেন। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বলে আসছেন শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে তিনি যাবেন না। নির্বাচন যে শেখ হাসিনার অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেইই হচ্ছে , সেটি ধ্রুবতারার মত সত্য।

সংবিধান সরকারকে সুবিধাজনক অবস্থায় ও বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলেছে। এখন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি থেকে সরে দাঁড়ালে বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেত্রীর ইমেজ ধুলোয় লূটাবে। এটি বিএনপির জন্য বড় বিষয়। অন্যদিকে দুর্নীতির মামলায় সাজা প্রাপ্ত বিএনপির নির্বাসিত নেতা তারেক রহমান না দেশে ফিরতে পারছেন, না ভোট যুদ্ধে অংশ নিতে পারছেন!

অথচ বিএনপি যেখানে যেন তেন উপায়ে ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে চায়। সেখানে তারক রহমান কে ছাড়া ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি অবতীর্ণ হোক এটি তিনি মানছেন না। তার সমর্থকারা ও এমনটি চায়ছেন না।এদিকে বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে নির্বাচন করলে ফলাফল কি হবে তা নিয়ে নানা মহলের সংশয় রয়েছে। তার আপোষহীন ইমেজের বারোটা বাজতে তিনি যেমন দিতে নারাজ তেমনি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করতে রাজি নন। সব মিলিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিএনপি কী ফের ভোট বজর্নের পথেই হাঠছে ? দল যতোই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিক প্রশ্ন ততোই জোরধার হচ্ছে। আগামী ভোটযুদ্ধ নিয়ে কি ভাবছেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ?

পুর্বপশ্চিম

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে সংবিধান কোনো বাধা না

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমরা চাই সমঝোতার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। যদি সমঝোতা না করে ২০১৪ সালের মতো সরকার নির্বাচন করতে চায় তাহলে জনগণ তা কখনও হতে দেবে না। শুক্রবার নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মওদুদ আহমদ বলেন, সংবিধান মানুষের জন্য, মানুষ সংবিধানের জন্য নয়। সংবিধান জনগণের ঊর্ধ্বেও নয়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে সংবিধান কোনো বাধা হবে না।

তিনি বলেন, দেশ এখন গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। সমঝোতার মাধ্যমে সরকারকে এ সংকট নিরসন করতে হবে। আমরা ভোটের অধিকার হারিয়েছি, গণতন্ত্র হারিয়েছি, মৌলিক অধিকার হারিয়েছি, আইনের শাসন হারিয়েছি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই, সর্বশেষ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হারিয়েছি। বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে এই অধিকারগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু, মোহাম্মদ শাহাজাহান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম ও শামীমা বরকত লাকী উপস্থিত ছিলেন।

জাগো নিউজ

Check Also

‘হাজী’ পরিবারের বিস্ময়কর উত্থান

পিতার দুই সংসারের দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান তিনি। অভাব-অনটনে বেড়ে ওঠা। অর্থভাবে লেখাপড়া করতে পারেননি। কিশোর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin