jiya_mujib_poribar

শহীদ জিয়ার পরিবার ও শেখ মুজিবের পরিবারের মধ্যে পার্থক্য দেখুন

শেখ মুজিবর রহমানের ছোট ভাই শেখ আবু নাসের।শেখ আবু নাসেরের দুই ছেলে,একজন হচ্ছেন শেখ হেলাল বর্তমান সংসদ সদস্য এবং আরেক ছেলে হচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেল। শেখ হেলালের মেয়ের জামাই আন্দালিব রহমান পার্থ।

শেখ সাহেবের বড় বোনের স্বামীর নাম আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলে হচ্ছেন সাবেক হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ , আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে বর্তমান বরিশাল আওয়ামীলীগের প্রধান ব্যাক্তি সেরনিয়াবাত সাদেক আব্দুল্লাহ।

এবার আসুন শেখ সাহেবের সেজো বোনের ছেলে শেখ মনি, এবং শেখ সেলিম। শেখ মনির ছেলে হচ্ছে বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ ফজলের নূর তাপস । উপরের এসব ব্যাক্তিদের চিনেন না, তাদের পরিবারের পরিচয় জানেন না এমন মানুষ বাংলাদেশে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কয়জন ভাই আছে ঠিক এই মহুর্তে গুগুলে সার্চ না দিয়ে বলতে পারবেন? জিয়াউর রহমানের ভাইয়ের ছেলে অথবা মেয়ের নাম ঠিক এখন আপনি মনে করতে পারবেন? জিয়াউর রহমানের পাঁচ ভাইয়ের নাম আমিও ঠিক করে জানি না। কিন্তু, একবার চিন্তা করে দেখুন, এই পাঁচ জন মানুষের ভাই ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট, উনাদের ভাবী ছিলেন বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী!

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলে যেখানে একজন সামান্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভাই-বোন জামাই-শালা’র বিরুদ্ধে দূর্নীতির অহরহর অভিযোগ উঠে।সেখানে দেশের সাবেক প্রেসিডেন্টর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একেবারে নিকট আত্মীয় হয়েও জিয়া পরিবারের কারো বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত চরম জিয়া বিদ্বেষী মানুষটি’ও আঙ্গুল তুলে অভিযোগ করতে পারবে না।

আমরা প্রায় সময় উদাহরণ দিয়ে থাকি, অমুক দেশের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিছুদিন আগের কথাই দেখেন, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সৎ ভাই-বোনরা কেনিয়ার এক অজোপাড়ায় বসবাস করেন।পৃথিবীর সব চাইতে ক্ষমতাধর মানুষের ভাই-বোনে কে কেউ চিনে না। এর জন্য ওবামা আর তার ভাই-বোনদের যুগল ছবি পোস্ট করে তাতে “ওয়াও” আর “লাভ রিয়েক্টের” প্লাবন ঘটিয়ে ফেসবুকে সয়লাব করে ফেলেছিলাম।

কিন্তু ,এই আমরা,বাংলাদেশের ভিতরে ক্ষমতার শীর্ষ বিন্দুতে থাকার সুযোগ পেয়ে’ও দূর্নীতির কালিমা মুক্ত থেকে, ক্ষমতার অপব্যাবহার না করে, লোক চক্ষুর আড়ালে একমাত্র সততা’কে পুঁজি করে জীবনা-যাপন করা প্রেসিডেন্ট জিয়া’র ভাইদের নামই জানি না। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, অনেক বিএনপি নেতা’ও হয়তো জিয়াউর রহমানের পাঁচ ভাইয়ের ছবিও দেখে নাই।

আজ সেই অসাধারণ পরিবারের সর্ব কনিষ্টজন,প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামাল ইন্তেকাল করেছেন।

(ইন্নালিল্লাহি-রাজিউন)

নিউজটি শুনে আম্মা আমার রুমে এসে জিজ্ঞাসা করলেন,

-জিয়ার ছোট ভাই নাকি মারা গেছে,তোর কাছে উনার কোন ছবি আছে? আমি ল্যাপটপ ওপেন করে আম্মাকে আহমেদ কামাল সাহেবের ছবি দেখাচ্ছিলাম। ঘাড় ফিরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি আব্বাও উঁকি দিয়ে ছবি দেখছেন।

আম্মা বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,

-জিয়ার ভাই দেখতে জিয়ার মত ছিল”

আব্বা বললেন, কেবল দেখতে জিয়ার মতই ছিল না, জীবন-যাপনে এরা সবাই জিয়ার মত সৎ ছিল। তাই উনাদের যাবিত জীবনে কোণ দুর্নীতি বা অপকর্মের কারনে পত্রিকায় বা মিডিয়ায় উনাদের ছবি আসে নাই, তাই আমাদের মত অনেকেই উনাদের নাম-ধাম জানতাম না। যেমন আজকে আহমেদ কালামের ইন্তেকাল না হলে তুমি জানতে পারতে না। এই দেশেরই সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়ার একটা ছোট ভাই ছিল। তুমি জানতে পারতে না দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আহমেদ কামাল নামের একজন দেবর ছিল।

লেখক ঃ রাশেদ খান ( ফেসবুক থেকে )

সর্বদলীয় সরকার পর্যন্ত ছাড় দেবে আ. লীগ

একটি গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সর্বদলীয় সরকার পর্যন্ত ছাড় দিতে রাজি। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। উন্নয়ন সহযোগীদের আওয়ামী লীগ বলেছে, ২০১৪ মডেলের সর্বদলীয় সরকার নির্বাচনের আগে গ্রহণে তাঁরা প্রস্তুত।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন পরিচালনার জন্য তাঁর নেতৃত্বে সংসদে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি সর্বদলীয় অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ তাঁরা যে মন্ত্রনালয় চায়, সেই মন্ত্রণালয় দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। বিএনপি গ্রহণ না করলেও শেখ হাসিনার প্রস্তাব দেশে বিদেশে বিপুল ভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

২০১৮ র জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক দেখতে চায় ভারতসহ উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো। বিএনপি এখন পর্যন্ত সহায়ক বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো ফর্মুলা উপস্থাপন করেনি। তারা মোটা দাগে বলছে, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। বিএনপির এই বক্তব্য উন্নয়ন সহযোগীরা তো নয়ই খোদ বিএনপির নেতারাই অবাস্তব বলছেন।

উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির আলাদা আলাদা বৈঠক হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী সম্প্রতি সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের বলেছেন, খুব বেশি হলে আমরা একটি সর্বদলীয় সরকার গঠন করতে পারি, যার প্রধান হবেন শেখ হাসিনা কারণ তিনিই সংসদ নেতা। মার্কিন প্রতিনিধিদের গওহর রিজভী এও বলেছেন, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে এটাই হবে সর্বোচ্চ ছাড়।

মার্কিন প্রতিনিধিরাও ড. রিজভীর কাছে জানতে চান, বিএনপি এখন সংসদে নেই, তাহলে সর্বদলীয় সরকার গঠিত হবে কীভাবে? জবাবে রিজভী দুটি বিকল্প বলেন। প্রথম বিকল্পে তিনি বলেন, প্রতি ১০ জন মন্ত্রিসভার সদস্যের একজন অনির্বাচিত থাকতে পারেন। ২০ সদস্যের অন্তবর্তীকালীন সরকারে দুইজন অনির্বাচিত থাকতে পারেন। দ্বিতীয় বিকল্পে, গওহর রিজভী বলেন সমঝোতার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের দুই বা তিনজন বর্তমান এমপি পদত্যাগ করলেন,সেই আসন গুলোতে বিএনপির মনোনীত ব্যক্তিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য এবং অন্তরবর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রী হলেন। মার্কিন প্রতিনিধি দল এটাও জানতে চেয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনকালীন সরকারে দপ্তরবিহীন রাখা যায় কিনা? ড. রিজভী বলেন, এটা এখনই তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব না।

যোগাযোগ করা হলে ড. গওহর রিজভী এই আলোচনার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, ‘একটা ইনক্লুসিভ ইলেকশনের জন্য আমরা কথা বলছি। উন্নয়ন সহযোগীরা চায় আগামী নির্বাচনে সব দল অংশ নিক। এটা আমরাও চাই।এটা করার জন্য আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে কথাবার্তা বলছি।’ ড. রিজভী এও বলেন ‘নির্বাচন তো আর সরকারের অধীনে হয় না, নির্বাচন হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে’।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আমরা প্রকাশ্য সংলাপ চাই,গোপন আলোচনা নয়। বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সংলাপের বিকল্প নেই। আমরা সমঝোতা চাই।`

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.