raoushon

ঘরে বসেও মানুষ খুন হচ্ছে : রওশন এরশাদ

বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, ঘরে বসেও মানুষ খুন হচ্ছে। ঘরে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কারা দেখবে? তাদের নিরাপত্তা দেবে কে? বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হঠাৎ করে মানুষের গুম হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে রওশন এরশাদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে মানুষ। মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। আমি যা বলছি পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে বলছি। এসব কোনো বানানো কথা নয়। পাঁচ বছরে নিখোঁজ হয়েছে ৫১৯জন মানুষ। তারা কীভাবে নিখোঁজ হলো? কদিন আগে অনিরুদ্ধ রায় ফিরে আসল। তিনি কোথায় ছিলেন? কে তাদের নিয়ে গেল? অন্যরা ফিরল না। তাহলে বোঝা যাচ্ছে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব কার-এটাই আমার প্রশ্ন। কাজেই এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার।

মাদকের প্রসারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। ইয়াবার পর এখন ক্যাটামিন নামে নতুন মাদক এসেছে। নাকের সামনে স্প্রে করে নেশা করার নতুন পদ্ধতি।

তরুণ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য রাত ১০টার পর হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইভার, ম্যাসেঞ্জার এসব বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, সৌদি আরবে এসব নাই। চায়নাতেও নাই। স্মার্টফোন থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের দেয়া বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে তিনি বলেন, এসব নিম্নমানের বই কতদিন টিকবে? নিম্নমানের ছাপা। ছবি হাতের ঘষায় উঠে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কোটি কোটি লোক বেকার। আমরা দেশব্যাপী ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারিনি। মানুষের কাজ নেই। কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে উঠতে পারব। তিনি পারমাণবিক বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রূপপুর আণবিক পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের বিরোধিতা করেন।

উৎসঃ   জাগোনিউজ

বেগম জিয়ার মিশন রংপুর, যাবেন সড়ক পথে

রংপুর সিটি নির্বাচনে চমকে দিতে চান বেগম জিয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে তিনি সড়ক পথে রংপুর যাবেন। দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের পালাক্রমে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে অংশ নিতে বলেছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রংপুর যাচ্ছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

রংপুরে বিএনপি জনপ্রিয় দল নয়। ৭৯ এর সংসদ নির্বাচনে রংপুর সদর থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী রেজাউল হক সরকার রানা। রংপুরের বিএনপির সাফল্য বলতে ওই টুকুই। ঐতিহ্যগতভাবে রংপুর ছিল আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। কিন্তু ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর এরশাদের পতন হলে, রংপুরবাসী এরশাদ প্রেমী হয়ে ওঠেন। ৯১ এর নির্বাচনে জেলে থেকে এরশাদ রংপুরের সবকটি আসনে জয়ী হন। তবে, এরশাদের জনপ্রিয়তায় এখন বেশ ভাটার টান। তাছাড়া, এবার সিটি নির্বাচন নিয়ে জাপায় বিরোধ প্রকাশ্যে।

দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ মোস্তাফিজুর রহমানকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন। কিন্তু এরশাদের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন তাঁর ভাতিজা এবং জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। জাপার ভেতরের খবর হলো, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা আসিফকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন। তাই, গত রসিক নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়া জাতীয় পার্টির এবারের অবস্থা খুব একটা ভালো না।

আওয়ামী লীগ শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেও বিরোধ স্পষ্ট। আওয়ামী লীগের পক্ষেই একটি অংশ ঝন্টুর বিরুদ্ধে কাজ করছে। এছাড়া ঝন্টু সদ্য বিদায়ী মেয়র। তাঁর বিষয়ে মানুষের অভাব অভিযোগ রয়েছে। তাঁর অনেক কাজ ভালো হলেও, বেশ কিছু কাজের সমালোচনা আছে। সবচেয়ে বড় কথা, ঝন্টুর নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগই ঐক্যবদ্ধ নয়।

আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির এই দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়ে রংপুরে বিজয় পতাকা ওড়াতে চান বেগম জিয়া। গত রসিক নির্বাচনে বিএনপি হয়েছিল তৃতীয়। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন মনে করছেন বিএনটির নেতারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রংপুরে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। কিন্তু রংপুরে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ না। সারাদেশে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যে অনাস্থা তাঁর বহিঃপ্রকাশ ঘটবে রংপুরে।’

খসরু মনে করেন, ‘রংপুরের নির্বাচন হবে বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থার নির্বাচন।’ বিএনপি একাধিক নেতা বলেছেন, ‘রংপুরে বিএনপির হারানোর কিছু নেই। এই এলাকাটি জাপা-আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত এলাকা। এখানে বিএনপি হারলেও কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু রংপুরে যদি বিএনপি জয়ী হয় সেটি হবে, ‘চমক’। যেমনটি মনে করেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তাঁর মতে, ‘রংপুরে বিএনপির জয় প্রমাণ করবে এই সরকারের জনসমর্থনহীন ‘

তাই গতবার রসিক নির্বাচনকে হালকাভাবে নিলেও এবারের নির্বাচনক বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই নিয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথমভাগেই বেগম জিয়া ৫ দিনের উত্তরাঞ্চল সফরের পরিকল্পনা নিয়েছেন। আসলে তাঁর এই সফরের গন্তব্য হবে রংপুর। বিএনপির নেতাদের মতে, বেগম জিয়া রংপুর সফরের মাধ্যমে একটি জোয়ার আনতে চান। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতাদের পালাক্রমে রংপুর সফরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রংপুর দূর্গ জয় করলে, বিএনপি এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় দল, এটা প্রমাণ করা সহজ হবে, এমনটাই ভাবছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

বাংলা ইনসাইডার

Check Also

মঈনকে ক্ষমতা নিতে বলেছিলেন খালেদা জিয়া

২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস এবং সংবিধান বিপন্ন করার এক কলঙ্কিত দিন। আর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin