khaleda_03

আদালতে খালেদা জিয়া

আত্মপক্ষ সমর্থন করে পঞ্চম দিনের মতো বক্তব্য তুলে ধরতে আদালতে গেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারে বিশেষ জজ আদালত-৫ এ আত্মপক্ষ সমর্থন করে তাঁর অসমাপ্ত বক্তব্য তুলে ধরার কথা রয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের অস্থায়ী আদালতে পৌঁছান।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন আত্মপক্ষ সমর্থন করে চার দিন বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই আদালতে আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটিও বিচারাধীন আছে। অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দুটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মোট ৩৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় দুর্নীতির অভিযোগে করা। দুর্নীতির মামলাগুলো বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় করা। বাকি মামলাগুলো গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা হয়েছে।

২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এরমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আর ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়াসহ চারজন।

প্রথম – আলো

দল সামলাতেই হিমশিম বেগম জিয়া

আন্দোলন বা নির্বাচন নয়, দল সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন বেগম জিয়া। দফায় দফায় বৈঠক করছেন, হুমকি দিচ্ছেন, দলের ঐক্যের গান গাইছেন, তবুও নিশ্চিত হতে পারছেন না। বিএনপির একটি বড় অংশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এরা আর বেগম জিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে পারছেন না। বেগম জিয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচনের বিপক্ষে গেলে বিএনপির ভাঙ্গন এখন অবধারিত। শুধু দেখার বিষয় ভাঙ্গন কত বড় হয়। বিএনপির সিংহভাগ নেতাই একমত, ২০১৪ সালের ভুল এবার করা ঠিক হবে না।

বিএনপির অনেক নেতাই প্রকাশ্য-গোপনে বৈঠক করছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, একমাত্র যাঁদের কোনো নির্বাচনী আসন নেই, তাঁরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার আওয়াজ তুলছে। বাকিরা সব নির্বাচনের মাঠে নেমে গেছেন।’ বেগম জিয়াও দেশে ফিরে বুঝতে পারছেন, সব সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য তিনি প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর তিনি ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।

সবাইকে নরমে গরমে বোঝাতে চেয়েছেন। আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচনে কেন যাওয়া যাবে না। সম্প্রতি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বেগম জিয়াকে একজন উপদেষ্টা বরেছেন, ‘ম্যাডাম আপনার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা বের করেন, একবার নির্বাচনের মাঠে নেমে গেলে বাঁশি ফুকানোর লোকও পাওয়া যাবে না।’

বিএনপির মধ্যে এই মত তীব্র হচ্ছে যে, ক্ষমতায় না যেতে পারি, সম্মানজনক সুস্থ রাজনীতির জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। নির্বাচনে বিরোধী দল হলেও মামলা, হামলা বন্ধ হবে, ফিরারি জীবনের অবসান হবে- এই মত অনেকের।

একজন বিএনপি নেতা তো বলেই ফেললেন, ‘কর্মীরা নির্বাচনের জন্য পাগল, তাঁরা জানে মাঠের অবস্থা কী। তাই তাদের এবার নির্বাচন থেকে দূরে রাখা অসম্ভব।’ তবে, বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসল ইস্যু না, বেগম জিয়া চান নির্বাচনের আগে যেন দন্ডিত না করা হয়। নির্বাচনের যোগ্য থাকলে শেখ হাসিনার অধীনেই বেগম জিয়া নির্বাচন করবেন-এমন অভিমত অনেকের।

বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের বেগম জিয়া এই বার্তাই দিয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে মামলাসহ দলের বড় বড় নেতাদের মামলাগুলোকে নির্বাচন পর্যন্ত পেছালে তিনি নির্বাচনের বিষয়ে ভাববেন। কিন্তু সরকার স্পষ্ট করেই বলছে, আইন তাঁর নিজস্ব গতিতে চলবে। মামলায় বেগম জিয়ার দণ্ড হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত, সরকার নয়। অখন্ড বিএনপির নির্বাচনে যাবার সিদ্ধান্তের প্রধান বাধাই হলো ‘মামলা’। বিএনপি এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট আশ্বাস চায়। কিন্তু কর্মীরা চায় নির্বাচন, তা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে হোক বা তাঁর অযোগ্যতায় অন্য কারও নেতৃত্বে।

বাংলা ইনসাইডার

নৌকায় চড়তে চান নাজমুল হুদা

বিএনপির এক সময়কার ডাকসাইটে নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এখন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় চড়তে চাইছেন। তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

সমকালের সঙ্গে আলাপকালে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বিশদ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করার কথা বলেছেন।

নাজমুল হুদা ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি। আগামী নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সালমান এফ রহমান।

তিনি সম্পর্কে নাজমুল হুদার চাচা। নাজমুল হুদা বলেছেন, তিনি তার চাচা সালমান এফ রহমানকে তার নিজের ঢাকা-১ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন।

তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় জোট গঠন করা হয়েছে। তিনি এই জোটের চেয়ারম্যান। জাতীয় জোটে ৩১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে বলে তার দাবি। জাতীয় জোট গঠনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে সম্পৃক্ত হন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। এর পর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সম্ভাব্য নির্বাচনী জোটে নাজমুল হুদার জাতীয় জোটের সম্পৃক্ত হওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। গত ১৮ নভেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাগরিক সমাবেশে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার উপস্থিতি সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক এই মন্ত্রী সমকালকে বলেছেন, দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে আওয়ামী লীগ, আরেকদিকে আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তি। আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে। তবে আওয়ামী লীগে বিলীন না হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন।

তিনি বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এটা তো বাস্তবতা- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জাতির কল্যাণে দৃশ্যমান অনেক কিছুই করেছেন। দেশে এখন আর সহিংসতা ও অস্থিরতা নেই। হরতাল উধাও হয়েছে। দেশজুড়ে উন্নয়ন হচ্ছে।

ভবিষ্যতে জাতীয়ভাবে অনেক বিষয়ের মীমাংসা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তার ভাষায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জয় বাংলা স্লোগান হলো জাতীয় সম্পদ। এ দুটি বিষয় দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

নাজমুল হুদা নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে দেখছেন। তার দৃষ্টিতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বের কারণেই দেশ বড় ধরনের সর্বনাশ থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে রাজনীতিতে সাফল্য আসেনি বলে তিনি মনে করছেন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এই সাফল্য আসবে বলে তার অভিমত।

এক সময়ে বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক এই নেতা বলেছেন, বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বে ব্যাপক দুর্বলতা রয়েছে। তবে বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপি চ্যালেঞ্জ হয়ে আসবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত করতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ‘ইউনেস্কোর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে যোগদান প্রসঙ্গে নাজমুল হুদা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ওই ভাষণের মাধ্যমে শর্ত সাপেক্ষে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। ওই ভাষণের প্রেরণা নিয়ে জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৭ মার্চের ভাষণ না এলে দেশ স্বাধীন হতো কি-না সন্দেহ। এই ভাষণ এখনও পুরনো হয়নি। কখনও পুরনো হবে না।

উৎসঃ samakal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.