আ.লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না: মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে একটি জরিপ করেছে। তাদের (গোয়েন্দা সংস্থা) মতে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না।

তিনি বলেন, তাই তারা শক্তি দিয়ে জাতীয়তাবাদী নেতাদের অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন করে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মতো আবারো একটি প্রতারণার নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু জনগণ আর কখনো সেই ধরনের নির্বাচন এ দেশের মাটিতে হতে দেবে না।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিশন মিলানায়তনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। যুবদল সভাটির আয়োজন করে।

সভায় ড. খন্দকার মোশাররফ আরো বলেন, আমাদের নেত্রী আগামী নির্বাচনের আগে উপযুক্ত সময়ে সহায়ক সরকারের রূপ রেখা দেবেন। আমরা সেই রূপরেখার আলোকে নির্বাচন করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাব। কিন্তু সরকার যদি তা না মেনে আবারো প্রতারণার নির্বাচন করতে চায় তাহলে জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য রাজপথে নেমে তা প্রতিহত করবে।

যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

উৎসঃ   purboposhchim

কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, কাঁদালেন সবাইকে

দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের কথা বলতে গিয়ে আবারও কাঁদলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল।

দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আজকে একটা দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বোনেরা-মেয়েরা আছে, যারা মাফ পায়নি, রেহাই পায়নি। সারা বাংলাদেশে হাজারো নেতা-কর্মীকে গুম করে দিয়েছে। তাদের বাচ্চারা এখনো বাবার পথের দিকে চেয়ে থাকে।’ এর পরেই গলা ধরে আসে মির্জা ফখরুলের। একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এমন একটা দুঃসময়, গ্রেপ্তার খুন চলছেই। এই সরকার, যারা আমাদের গণতন্ত্রের সব স্তম্ভকে ধ্বংস করে দিয়েছে, মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়েছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারগুলোও কেড়ে নিয়েছে।’

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মা-বোনদের কোনো নিরাপত্তা নেই। মানুষেরও নিরাপত্তা নেই। খবরের কাগজ খুললেই দেখবেন নারীদের লাঞ্ছনা করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে। খবরের কাগজ খুললেই দেখবেন আমার ভাইকে গুলি করে মেরে ফেলা রাখা হয়েছে। গুম হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। পাঁচ শতাধিক মানুষকে গুম করে ফেলা হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমরা কি সে জন্য দমে গেছি? আমরা গণতন্ত্রকে উদ্ধার করবই করব।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও দেশের মানুষ জেগে উঠেছে।

এর আগে গত ৮ জুলাই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের আলোচনা সভায় ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে এবং ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘৩০টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল’ বন্ধের প্রতিবাদ জানাতে আলোচনা সভায় দলের নেতা-কর্মীদের বর্তমান (সেই সময়ের) অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা ও দলীয় সংগীতের তালে তালে সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। সম্মেলনের প্রধান অতিথি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও কেন্দ্রীয় মাহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদসহ সভানেত্রী জিবা খান, যুগ্ম সম্পাদিকা হেলেন জেরিন খান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সারওয়ার চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রথম অধিবেশন শেষে ফোরাতুন নাহারকে সভাপতি, শিরিন আকতারকে সাধারণ সম্পাদিকা ও রুবিনা আক্তার, নাজমা বেগম, সানজিদা ইয়াসমিনকে সাংগঠনিক সম্পাদিকা করে জেলা মহিলা দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

প্রথম-আলো

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। বর্তমানে সাক্কুর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই। মঙ্গলবার ঢাকার ৮নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শামীম আহম্মদ তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

এদিন মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। সাক্কুর আইনজীবী মাসুদ আহম্মদ তালুকদার তার অব্যাহতির আবেদন করেন। অপরদিকে দুদকের আইনজীবী সাক্কুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মামলায় অভিযোগ গঠন করার মতো কোনো উপাদান না থাকায় আদালত সাক্কুকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

সাক্কুর আইনজীবী মাসুদ আহম্মদ তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, মেয়র সাক্কুর বিরুদ্ধে হয়রানির জন্য এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন। বর্তমানে সাক্কুর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৭১ হাজার ৯৩৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ১ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার ১২০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। পরে ওই অভিযোগে ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক শাহিন আরা মমতাজ এ মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাক্কুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

জাগো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.