তুই কি ওবায়দুল কাদের, যা বলবি তাই হবে?

গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় থামছেই না। আইনের তোয়াক্কা না করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে পরিবহনগুলো। আর বাড়তি ভাড়া আদায়ের কারণে প্রতিনিয়ত গণপরিবহনের শ্রমিকদের যাত্রীদের ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা কথা জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তার কথার তোয়াক্কা করছে না গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে লাব্বাইক (প্রা.) লিমিটেডের একটি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও সুপারভাইজারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সাভার ইপিজেড থেকে নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড পর্যন্ত রুটে চলাচল করে এ পরিবহনটি।

রাতে ঢাকা থেকে সাভার রুটে গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকার সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছিলেন বাসের সুপারভাইজার। গাবতলী থেকে লাব্বাইক পরিবহনে প্রায় ২০-২৫ জন যাত্রী ওঠেন। সবার কাছে ২৫ টাকা করে ভাড়া দাবি করেন সুপারভাইজার। গাবতলী থেকে হেমায়েতপুর জোড়পুরগামী এক যাত্রীর কাছ থেকে ২৫ টাকা ভাড়া চেয়ে বসেন তিনি। অথচ এই পথের দূরত্ব মাত্র ছয় কিলোমিটার। এত স্বল্প দূরত্বে ২৫ টাকা দিতে আপত্তি জানান যাত্রীরা।

অথচ বাসের সুপারভাইজার বলেন, গাবতলী থেকে বলে-কয়ে বাসে ওঠানো হয়েছে। বাসে উঠলেই ২৫ টাকা দিতে হবে।

এমন সময় এক যাত্রী বাসের সুপারভাইজারকে প্রশ্ন করে বসেন, ‘তুই কি ওবায়দুল কাদের, যা বলবি তাই হবে?’

ওই যাত্রী সুপারভাইজারকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, আমরা প্রতিদিন ১০ টাকায় যাতায়াত করি। ১০ টাকার কানা কড়ি বেশি দিতে পারবো না। আমরা তো আর টাকা চুরি করে আনি নাই যে, তুই চাইবি আর পকেট থেকে বের করে দেবো।

এরপরে বাসের সুপারভাইজর বলেন, তাহলে ১৫ টাকা দেন।

ওই যাত্রী নিজেকে শিক্ষার্থী দাবি করে ১০ টাকা ভাড়া দেন। তবে এই ভাড়া নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন সুপারভাইজার। এরপরেই যাত্রী ও সুপারভাইজরের মধ্যে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। তবে অন্যান্য যাত্রীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বাসের ওই যাত্রী সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব হাসনাত বলেন, আমরা প্রতিদিন ১০ টাকায় যাতায়াত করি, অথচ ভাড়া চায় ২৫ টাকা। এতো বেশি ভাড়া কীভাবে হয়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.