Monday , September 23 2019
Breaking News

অজ্ঞান হয়ে এজলাসের খাঁচায় ২০ মিনিট পড়েছিলেন মুরসি!

আদালতে একটি মামলার শুনানি চলাকালে সোমবার মারা যান মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। তবে তাকে বিনা চিকিৎসায় হত্যার অভিযোগ এনেছে পরিবার ও তার দল।

পরিবার ও বন্ধুদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, অজ্ঞান হয়ে প্রায় ২০ মিনিট এজলাসের খাঁচায় পড়েছিলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

মুসলিম ব্রাদারহুডের ৬৭ বছর বয়সী এই নেতা অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলে তার দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে নিরাপত্তা প্রহরীদের অনুরোধ করেন অন্য আসামিরা। কিন্তু মেঝেতে প্রায় ২০ মিনিট পড়ে থাকার পর তাকে খাঁচা থেকে বের করা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিসরের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস। তাদের দাবি, অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার পর মুরসিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার ও মুসলিম ব্রাদারহুডের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসায় মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কারাগারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস, কিডনি ও লিভারজনিত অসুখে ভুগছিলেন যার যথাযথ চিকিৎসা তিনি পাননি।

মৃত্যুর আগে প্রায় ছয় বছর দিনে ২৩ ঘণ্টা নির্জন সেলে কাটাতে হয়েছে মুরসিকে। শুধু দিনে এক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করার সুযোগ পেতেন তিনি। এর মধ্যে মাত্র তিনবার তার পরিবারের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পায়।

মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) নেতা মুরসি দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট।

২০১১ সালে আরব বসন্তের হাত ধরে আসা এক গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক পদচ্যুত হন। পরের বছরেই নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেন মুরসি।

‘তামারুদ’ নামের একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে সাজানো এক বিক্ষোভ আয়োজন করে ২০১৩ সালে সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। মুরসির হাতে সেনাপ্রধান হওয়া আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ক্ষমতায় বসেন।

মুরসিকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও কাতারের কাছে রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের কাছে তথ্য পাচারেরও অভিযোগ আনা হয়।

গত ২০১৬ সালের জুনে তথ্য পাচারের মামলায় মুরসিকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালত। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচারের অভিযোগে মুরসিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

উৎসঃ   দেশ রূপান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.