মার্কিন হুমকি উপক্ষো করে জেরুজালেম প্রশ্নে জাতিসংঘে ভোটাভুটি বৃহস্পতিবার

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে উত্থাপিত একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠানের জন্য বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশন বসছে।

এর আগে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ভোট গ্রহণের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে টুইটারে জানান, ‘বৃহস্পতিবার আমাদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ভোটাভুটি হবে।’

১৯৩ রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিতে আরব দেশসমূহ ও অর্গানাইজেশন অব দ্য ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)’র পক্ষ থেকে তুরস্ক ও ইয়েমেনের আহ্বানে এই জরুরি বৈঠক বসতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের সদস্যদের হুমকি চিঠি যুক্তরাষ্ট্রের
জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সদস্যদেশগুলোকে হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি।

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে উত্থাপিত একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠানের জন্য বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশন বসছে। এ বিষয়েই জাতিসংঘের সদস্যদের হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠান নিক্কি হ্যালি।

ওই চিঠিতে নিক্কি হ্যালি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই প্রস্তাবের পক্ষে যারা ভোট দেবে তাদের নাম স্মরণে রাখবে ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবারের ভোট গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন, যারা আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দেবে তাদের বিষয়ে তাকে রিপোর্ট করার জন্য। তাই আমরা এই ইস্যুতে প্রতিটি ভোটের বিষয়ে নোট রাখবো। আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া ব্যক্তিদের মত পরিবর্তনের আহ্বান করছি।’

জাতিসংঘে ভোট গ্রহণের বিষয়ে টুইটারেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নিক্কি হ্যালি।

১৯৩ রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিতে আরব দেশসমূহ ও অর্গানাইজেশন অব দ্য ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)’র পক্ষ থেকে তুরস্ক ও ইয়েমেনের আহ্বানে এই জরুরি বৈঠক বসতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর বলেছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা প্রত্যাহার দাবি করে একটি খসড়া প্রস্তাব আনা হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। তার ওপর ভোট হবে বৃহস্পতিবার।

উল্লেখ্য, সোমবার একই রকম প্রস্তাবের ওপর ভোট হয় নিরাপত্তা পরিষদে। সেখানে ভোট দেয়ার আগে বৃটেন, ফ্রান্স-সহ অমুসলিম দেশগুলোও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে। নিরাপত্তা পরিষদে সদস্য মোট ১৫টি। এর মধ্যে স্থায়ী পরিষদের সদস্য ৫টি। এর একটিমাত্র দেশ যদি কোনো প্রস্তাবে ভেটো দেয় তাহলে সেই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। সেই কাজটিই করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিষদের বাকি ১৪টি দেশের সবাই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।

রিয়াদ মানসুর বলেছেন, তিনি গভীরভাবে আশাবাদী। তিনি মনে করেন সাধারণ পরিষদের ভোটে প্রস্তাবের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন পাবেন। এ ভোটের ফলে প্রস্তাব পাস হলে তা যে কাউকে আইনগতভাবে মেনে নিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়বে।

তবে এর আগেই মঙ্গলবার জাতিসংঘের কয়েক ডজন সদস্য রাষ্ট্রকে সতর্ক করে চিঠি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। এ থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ নভেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। এরপর তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়েই নিন্দার ঝড় বইছে। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেরুজালেম। হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে এসেছেন।

ফিলিস্তিনিরা মনে করেন, স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী হবে জেরুজালেম। তাছাড়া জেরুজালেম শান্তি আলোচনারও কেন্দ্র বিন্দু। কিন্তু ট্রাম্পের ওই ঘোষণায় শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.