এক রাতেই ৭০০ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পেলেন সামিরা!

৯০ দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের এক ধূমকেতুর নাম সালমান শাহ। যিনি হুট করে এসে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মন জয় করেন, আবার খুব তাড়াতাড়িই নিভে যান। না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেও তার আবেদন আজও ফুরিয়ে যায়নি। দর্শক হৃদয়ে তিনি আছেন স্বমহিমায়। বাংলা সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় এ নায়কের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেনি তার ভক্তরা।

তাই তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে খুন করা হয়েছিলেন তা জানার জন্য আকুল হয়ে ছিলেন সালমান ভক্তরা। চার দফা তদন্তেও এ প্রশ্নের সর্বজনগ্রাহ্য জবাব মেলেনি। অবশেষে অমীমাংসিত এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

মৃত্যুর ২৪ বছর পর গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে পিবিআই। এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি; তিনি আত্মহত্যাই করেছিলেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় একটি দৈনিকে সাক্ষাৎকারে দিয়েছেন অমর নায়ক সালমানের স্ত্রী সামিরা।

তিনি বলেন, এক রাতেই আমি ফেসবুকে ৭ শতাধিক বন্ধু হওয়ার অনুরোধ পেয়েছি।’ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় সালমান আত্মহত্যা করেছেন প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসায় তার নির্ভার লাগছে কি না। সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্তের শুরু থেকে আমি একই কথা বলে আসছি। জানি আমি নির্দোষ। পিবিআই বলার পর হয়তো আরও অনেকে বিশ্বাস করেছে।

নইলে কি আর কাল রাত থেকে সাতশর বেশি বন্ধুত্বের অনুরোধ পেতাম? এর আগে সোমবার প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ-এমন তথ্য উঠে এসেছে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে।

ব্রিফিংয়ে প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে বনজ কুমার বলেন, ৪৪ জনের জবানবন্দিসহ সার্বিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর পর দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্তকারী সংস্থার প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি তার পরিবার। প্রথমে থানা পুলিশ পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটি তদন্ত করে।

সেটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সালমান শাহ অপমৃত্যু নাকি হত্যার শিকার তা নিশ্চিত হতে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে। সেটাও প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর র‌্যাব এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট তদন্ত সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও সালমান শাহ হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি পিবিআই। এ কারণে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ শুনানি শেষে পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আগামী ১৮ মার্চ। তবে ১৮ মার্চের আগেই পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে চাইছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই।

পিবিআই সদরদফতর সূত্রে জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যার শিকার নাকি তার অপমৃত্যু হয়েছে, সে ব্যাপারে তদন্ত একদম শেষ পর্যায়ে। পিবিআই তাদের তদন্তে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্যও পেয়েছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ।

সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

সূত্র: সময় টেলিভিশন

Check Also

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন করোনায় আক্রান্ত সেই কনিকা

অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন করোনায় আক্রান্ত বলিউড প্লেব্যাক গায়িকা কণিকা কাপুর। চলতি সপ্তাহে পরপর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin