পরীর অনুপ্রেরণা আমাকে সাহস দিয়েছে: জায়েদ

সিনেমা…। আমার ভালোবাসার সিনেমা। আমার স্বপ্নের সিনেমা। আর স্বপ্নের সেই সোনালী পর্দার সিনেমা হল। যার জন্য আজ আমি আপনাদের ভালোবাসার জায়েদ খান। কত কষ্টে অর্জিত এই ভালোবাসা। কত সাধনার, কত স্বপ্নের..।

যে স্বপ্নের শুরু হয়েছিল সেই ছেলেবেলায়। যা বলতে চাচ্ছি, সেটা হয়ত আমি দুই-তিন লাইনেও বলতে পারতাম। কিন্তু যে ‘অন্তর জ্বালা’ দিয়ে আপনারা আমাকে নতুন ভাবে জন্ম দিলেন, যে আবেগ, যে ভালোবাসায় আমাকে অশ্রুসিক্ত করলেন, হয়ত অনন্তকাল বলেও আমি আমার সে আবেগ প্রকাশ করতে পারব না।

অল্প করেই বলি…।

পিরোজপুর জেলার ছোট্ট একটি শহরে দাঁড়িয়ে থাকা আমার স্বপ্নের ঘর। সবার কাছে ‘জনতা সিনেমা হল’ নামে পরিচিত হলেও আমার কাছে এর আর এক নাম “অন্তর জ্বালা সিনেমা হল”। যেখানে স্বপ্ন আমাকে প্রথম বারের মত হাতছানি দিয়ে ডাকে। আমার চোখের সামনে আজও স্পষ্ট ভেসে উঠে। আমি তখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। স্কুল পালিয়ে প্রথম সেই সপ্নের সাথে কোলাকুলি।

‘নরম-গরম’ নামে একটি সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। সেই থেকেই শুরু, এরপর থেকে স্কুল পালিয়ে, বাবা-মা’র কাছে মিথ্যা বাহানা দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে অজস্র বার সপ্নের সাথে দেখা করতে গিয়েছি সেই ঘরে। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে, আমি জায়েদ খান হতে চলেছি, জীবনে প্রথমবারের মত করেছি প্রযোজনা।

ব্যাস্ততার জালে জড়িয়ে আছি এই নতুন কাজের দায়িত্বে। এই উচ্ছ্বাস, এই ব্যাস্ততার মাঝেও কোথায় যেন একটা চাপা কষ্ট আমাকে চেপে ধরে আছে, বুঝতে পারছিলাম না কী সেই কষ্ট। ছবি রিলিজের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুরে যাওয়ার প্ল্যান ছিল আগে থেকেই। পরীকে কল করলাম। বললাম পিরোজপুরে যাওয়ার ব্যাপারে। যে ভালোবাসা তারা আমাদের দিয়েছেন সেই ভালোবাসার আনন্দ তাদের সাথে ভাগাভাগি করতে যাব বলে তর সইছে না একদম।

‘ও’ বলে উঠলো কোন হলে, জনতা হল? যে হলে আমরা শুটিং করেছি? মুহূর্তেই টের পেয়ে গেলাম আমার চাপা কষ্টের জায়গাটা। যেই ঘরে আমার স্বপ্নের সাথে প্রথম দেখা, স্বপ্নের পথে যে ঘরে কেটেছে আমার শৈশব, কৈশোর, যৌবনের অনেকটা সময়, যে ঘর থেকে আপনাদের আজকের জায়েদ খানের জন্ম, ‘অন্তর জ্বালার’ জন্ম, সেখানেই ‘অন্তর জ্বালা’ সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে না! হবেই বা কিভাবে! অবহেলায় যে জীর্ন অবস্থা, ভাঙ্গা সিট, নোংরা পর্দা,পরিচর্যাহীন হলের পরিবেশ, পেন ড্রাইভে চলছে সিনেমা, সার্ভার নেই, দর্শক নেই।

যেই ‘অন্তর জ্বালা’ অনেকগুলো বন্ধ সিনেমা হলকে আবার চালু করলো, সেই সিনেমার জন্ম যে সিনেমা হল থেকে সেখানেই প্রদর্শিত হবে না, এটা হয় না। যে ঘর আমাকে স্বপ্নের হাতছানি দিয়েছে সে ঘরকে আমার অর্জিত স্বপ্ন দিয়ে আমি আবার রাঙ্গিয়ে সাঁজাব। পরীর অনুপ্রেরণা আমাকে সাহস দিয়েছে। ‘অন্তর জ্বালা’ দিয়েই ‘জনতা সিনেমা হল’ আবার যাত্রা শুরু করবে…….ইনশাআল্লাহ।

(জায়েদ খানের ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)

বিডি প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.