সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারীদের কান্নার রোল, প্রবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ!

বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়া নারীদের ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানিয়েছে, নিয়োগকারীদের দ্বারা যৌন ও শারীরিকভাবে নিপীড়নের শিকার হয়ে শত শত নারী কাজ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এসব নারীদের থাকার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র (সেইফ হোম) খুলতে হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে।

রিয়াদ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ফাঁস হওয়া গোপনীয় কূটনৈতিক বার্তা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে বলে দাবি মিডলইস্ট আই’র।

ঢাকার একজন কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পালিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসা নারীরা অভিযোগ করেন নিয়োগকর্তারা তাদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন চালান। কেউ আবার অসুস্থ হয়েও আসেন। তাই তারা এখানে আশ্রয় নিতে চান।’

২০১৫ সালে লেখা ওই কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ জন নারী আশ্রয় কেন্দ্রে আসেন। অব্যাহতভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা নারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তারা আশ্রয় কেন্দ্রে আরও আসন বৃদ্ধি ও সিসিটিভি-সিস্টেম পাঠানোর অনুরোধ করেছেন ওই বার্তায়।

এছাড়া একজন কাউন্সেলর পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বার্তায় আরও বলা হয়, আশ্রয় কেন্দ্রে আসা নারীদের সহযোগিতার জন্য দূতাবাসে কোনো নারী কূটনীতিক নেই।

আশ্রয় নেয়া নারীরা দেশে ফিরে আসতে দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের সাথে পাসপোর্ট বা অন্যান্য কাগজপত্র থাকে না। মিডলইস্ট আই’কে কয়েকজন নারী জানিয়েছেন, সৌদি আরবে পৌঁছার পরপরই গৃহকর্তারা তাদের কাছ থেকে সব ধরনের কাগজপত্র নিয়ে নেয়। এতে অনেকের পক্ষে সহজে দেশে ফিরে আসা সম্ভব হয় না।

আবার কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেন নিয়োগকর্তারা। ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, এমন ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর দেশে ফিরতে কখনো ১৫ দিন বা এক মাস আবার কখনো ৬ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

সৌদিতে এ ধরনের আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা কত তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বার্তায় দেয়া হয়নি। তবে ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দা এবং রিয়াদে অন্তত ২৫০ জন নারী আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন।

গত চার বছরে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী যাওয়ার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে ৫ হাজারের কিছু বেশি নারী সৌদি গিয়েছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে যান ২১ হাজার জন, ২০১৬-তে ৬৮ হাজার, ২০১৭-তে ৮৩ হাজার। আর চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে গেছেন ১৬ হাজারের বেশি।

বিদেশে মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন দিশেহারা বাবা

মেয়েটির বয়স ১৯ বছর। কিন্তু পাসপোর্টে তাঁর বয়স ২৮ বছর। এই তরুণী অবিবাহিত। তবে পাসপোর্টে তিনি বিবাহিত। স্বামীর নামের ঘরে নিজের নানার নাম। ময়মনসিংহ থেকে পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়াসহ সব কাজই করেছে একটি দালাল চক্র। তারপর সরকারি নিয়মকানুনের মধ্যেই মেয়েটি সৌদি আরবে পা বাড়ান গত ১১ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকেই মেয়েটি যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

কেরানীগঞ্জ থেকে তরুণীটির বাবা একবার দালাল, একবার থানা, একবার গণমাধ্যম, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাচ্ছেন। বাড়ি ফিরে অন্য আত্মীয়দের জানাচ্ছেন, মেয়ে বিদেশে ভালো আছেন। তা না হলে মেয়ে দেশে ফিরলে তো আর তাঁকে বিয়ে দিতে পারবেন না।

সম্প্রতি কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে বসে তরুণীর বাবা বলেন, ‘মেয়ের জন্য তো কানতেও পারতেছি না। আমার আব্বুটা (মেয়ে) কত কষ্ট পাইতেছে। ওরে জন্তু-জানোয়ারের মতো মারতাছে। শুধু বাঁচতে চায় আমার আব্বু। আমি তো কোনো আশ্বাসও দিতে পারি না। ফোন করলে তো কথাও বলতে পারি না।’

মেয়েকে দালালদের মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে (সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সৌদি আরবে কাজের জন্য যেতে বয়স হতে হয় ২৫ বছর) এভাবে বিদেশ পাঠিয়ে এখন অনুতপ্ত এই বাবা। তিনি বললেন, ‘দালালেরাই তাঁকে বুঝিয়েছেন, মেয়ে ভালো চাকরি করবে। মেয়ে দেশে এক কাপ চাও বানিয়ে খায়নি, ওই মেয়েকে বাসাবাড়ির কাজে দিয়েছে। আর মেয়ে শুধু এখন বলছে, তার সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মেয়ে হয়ে বাবার কাছে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’

আরো পড়ুন – বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন সৌদি যুবরাজ!

এইচএসসি পাস করা ওই তরুণীর সঙ্গে প্রথম আলোর প্রতিবেদকের টেলিফোনে কথা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এবং ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে দ্রুত তিনি বলেন, তিনি খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছেন। বর্তমানে যেখানে আছেন, সেখানে ১০ থেকে ১২ জন পুরুষ থাকেন। সারা দিন প্রচণ্ড কাজের চাপ। এর সঙ্গে চলে যৌন নির্যাতন। সব মিলিয়ে তাঁর কাছে এক সেকেন্ড সময়কেও অনেক দীর্ঘ মনে হচ্ছে।

প্রথম আলোর সংগ্রহে থাকা মেয়েটি এক ভিডিও বার্তায় তিনি কিস্তি থেকে টাকা উঠিয়ে হলেও তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। যেমন করে হোক, তাঁকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় মেয়েটি বলেছেন, ‘আমি মইরা যামু। জানে কুলাইতেছে না। সহ্য করতে পারতেছি না। জীবনটা ছেলেখেলা না। আমি বাঁচতে চাই, বাঁচাও…।’

মেয়েটির বাবার দেওয়া তথ্য এবং গত ২৮ মার্চ কেরানীগঞ্জ থানায় বাবার করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুরের গ্রামীণ ট্রাভেলসের মালিক আবুল কাশেম মেয়েটিকে বিদেশ পাঠানোর ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন। আবুল কাশেম বর্তমানে ওমরা হজ পালন করতে সৌদি আরবে রয়েছেন।

গ্রামীণ ট্রাভেলসের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের মালিক দেশে ফিরেই মেয়েটিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবেন। আমরা মাসে ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষকে বিদেশ পাঠাচ্ছি। কিন্তু খাদ্দামা ভিসায় যাওয়া এই মেয়েটিই খারাপ জায়গায় পড়েছে। এই মেয়ের বয়স কম ছিল, পাঠানোর আগেই মেয়েটির বাবাকে বলেছিলাম, তখন বাবা কান্নাকাটি করে বলেছেন, বয়স বেশি দেখিয়ে হলেও যাতে পাঠানো হয়।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটিকে দুই বছরের চুক্তিতে বিদেশ পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দেশে ফিরিয়ে আনার টাকা মেয়ের পরিবারের দেওয়ার কথা। মেয়েটির বাবাকে অর্ধেক টাকা দিতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু টাকা না দিয়ে ওই বাবা থানায় জিডি করেছেন, সাংবাদিকদের কাছেও গেছেন। তাই এখন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই মেয়েটিকে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করা হবে বলে আলোচনা চলছে।’

নিরাপদে দেশে আনার জন্য ওই তরুণীর বাবা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে আবেদন করেন। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয় সরকারের ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ডকে। গত ১১ মার্চ এই বোর্ড থেকে মেয়েটিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।

এরপরও তাগাদা দিয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে আবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানালেন কল্যাণ বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। তাঁর মতে, নির্যাতনের শিকার নারীদের ভাগ্য ভালো হলেই এ ধরনের চিঠি পাওয়ার পর দূতাবাস দ্রুত উদ্যোগ নেয়। ভাগ্য খারাপ হলে কত দিনে ওই নারী দেশে ফিরতে পারবেন, তার কোনো গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব হয় না।

বিদেশ যাওয়ার বিভিন্ন কাগজপত্র অনুযায়ী, মেয়েটি ‘টিপিএস ৩৬০ বাংলাদেশ’ নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। এই এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. রুবেল বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই মেয়েটি সৌদি আরবে গেছেন। তবে তিনি নির্যাতনের শিকার—এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ করলে তাঁরা বিষয়টি দেখবেন।

আরো পড়ুন – পুরো আফরিনে উড়ছে তুরস্কের পতাকা

এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা বলেন, ‘তিনি দালাল কাশেমের পা পর্যন্ত ধরেছেন মেয়েকে দেশে আনার জন্য। তিনি কাশেমের প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠানের কাউকে চেনেন না, যারা তাঁর মেয়ের বিদেশ যাওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল।’

মেয়েটির বাবা বলেন, তাঁর এক ছেলে থাকলেও মেয়েটিকে বেশি ভালোবাসেন। আদর করে মেয়েকে ‘আব্বু’ ডাকেন। মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারলে তাঁর আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।

সৌদি প্রবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ! পেশা পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ

সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীদের আকামায় পেশা পরিবর্তনের সুবিধা বাতিল করেছে দেশটির শ্রম এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয় বলেছে, এ আইনের ফলে যারা পেশা পরিবর্তনের অনুমোদন পাবেন না তারা চাইলে এর বিরুদ্ধে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। মঙ্গলবার সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে এ সংক্রান্ত নিবন্ধনের জন্য বেঁধে দেয়া ৪ সপ্তাহের অতিরিক্ত মেয়াদকাল সোমবার শেষ হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা নিয়মিত এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করবে। এ জন্য বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালাবে তাদের তদন্তকারীরা। নিয়মভঙ্গ করে পেশা পরিবর্তনকারীকে শনাক্ত করা হলে প্রত্যেককে ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে।

মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, নিতাকাত পদ্ধতির আওতায় প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণমূলক কর্মসংস্থানের অনুপাত পুনঃনির্ধারণ করা হবে। যাতে সৌদি আরবের স্থানীয় নাগরিকদের কাজের সুযোগ প্রবাসীদের কারণে সংকুচিত না হয়। এ প্রক্রিয়াকে সৌদিকরণ বা সাউদিজেশন বলা হয়। সৌদি আরবের ষাটোর্ধ্ব নাগরিকরা বেসরকারি খাতে কাজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাদের সৌদিকরণের আওতায় আনা হবে না।

সৌদি আরবে কেন এসব ঘটছে?

সৌদি আরবে এখন অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটছে। দেশটিতে রাজপরিবারের সদস্য, মন্ত্রী, শীর্ষ ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তাদেরকে বিলাসবহুল হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বিমানগুলো আটকে রাখা হয়েছে আর সম্পত্তি জব্দ করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

এসব কিছুর পেছনে রয়েছে ৩২ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান, যিনি সদ্য গঠিত দুর্নীতি দমন কমিটির প্রধান। কিন্তু এত কিছু কেন ঘটছে? এটা কি শুধু মাত্রই দুর্নীতি? নাকি যুবরাজের ক্ষমতা করায়ত্তের করার কৌশল?

দুর্নীতি সৌদি আরবে প্রচলিত একটি ব্যাপার। তেল সম্পৃদ্ধ এই দেশটিতে ব্যবসা করতে গেলে ঘুষ বা উপঢৌকন দেয়া যেন ব্যবসারই একটি অংশ। সেখানে যারা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় বসে আছেন, তাদের অনেকেই অকল্পনীয় সম্পদের মালিক। কিন্তু সরকারি বেতনে এত অর্থ উপার্জন সম্ভব না। তাদের বেশিরভাগ সম্পদই এসেছে বিভিন্ন অফ শোর একাউন্ট থেকে।

সৌদি আরবের এই ধনাঢ্য কিছু ব্যক্তির পেছনেই লেগেছেন যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান, আর তাকে সমর্থন দিচ্ছেন তার পিতা ৮১ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান। তিনি একটি বার্তা দিতে চান যে, ব্যবসার পুরনো রীতিনীতি আর চলবে না। সৌদি আরবের এখন সংস্কার দরকার এবং একুশ শতকের সঙ্গে তাল মেলাতে একটি আধুনিক জাতি হয়ে ওঠা দরকার।

এসব গোপন বা অফ শোর হিসাবের অর্থও পেতে চাইছে সৌদি সরকার। অর্থের হিসাবে যা হবে আনুমানিক প্রায় ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কিন্তু এর শেষ কোথায়? দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল এর মধ্যেই জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের মাত্র সমাপ্তি হয়েছে। তার মানে সামনে আরো অনেকে গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছেন।

যদিও ক্ষমতাসীন আল সৌদ পরিবার কখনোই প্রকাশ করেনি, দেশটির তেল বিক্রির কি পরিমাণ অর্থ রাজপুত্র বা রাজপরিবারের সদস্যদের পেছনে খরচ হয়, যাদের সংখ্যা কয়েক হাজার। ২০১৫ সালে যুবরাজ নিজেই ৫০০মিলিয়ন ইউরো (৫০০০ কোটি টাকা) খরচ করে রাশিয়ান এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি বিলাসবহুল ইয়াট কিনেছেন বলে শোনা যায়।

এখন অনেক সৌদি সাধারণ নাগরিকের আশা, বিত্তশালীদের এসব সম্পদ সাধারণ মানুষের পেছনেই খরচ করা হবে। যদিও এই তদন্তের শেষ ঠিক কোথায় হবে, তা পরিষ্কার নয়। তবে শুধু এসব বিষয়ই নয়, পুরো ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতার যোগসূত্র আছে।

৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান বা এমবিএস, যে নামেও তিনি পরিচিত, এর মধ্যেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র গুলোয় ক্ষমতা করায়ত্ত করেছেন। তিনি এখন বিশ্বের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি দেশে একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করেছেন, যার উদ্দেশ্য দেশের তেল নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা। পিতার প্রিয় পুত্র হিসাবে তিনি দেশটির সর্বময় ক্ষমতাশালী রাজকীয় আদালতও পরিচালনা করেন।

তার ঘনিষ্ঠ মিত্রও রয়েছে। ওয়াশিংটন সফর এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিয়াদ সফরের পর হোয়াইট হাউজের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের সঙ্গে একটি লড়াই এবং কাতারের সঙ্গে ব্যর্থ বয়কটের সিদ্ধান্তের পরেও তিনি দেশের তরুণদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয়।

তবে তার কিছু শত্রুও আছে।

সৌদি আরবের ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী যেমন কিছুটা শঙ্কায় রয়েছে। সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল এই বাহিনী। এরপর থেকে তার ছেলে প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহ পরিচালনা করতেন। কিন্তু গত শনিবার তাকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ফলে সমর্থনকারী গোষ্ঠী আর গোত্র নেতারাও সংশয়ে পড়ে গেছেন। যুবরাজ জানেন, তিনি যেসব সংস্কার পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছেন, অনেকেই তার বিরোধিতা করবে। তবে তিনি এখন কিছু উদাহরণ দেখাতে চান যে, তার পরিকল্পনায় যেই বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের তিনি সরিয়ে দেবেন।

রাজকীয় পরিবারের অনেক সদস্যরা চিন্তিত যে, তিনি খুব তাড়াতাড়ি অনেক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, দেশটির ধর্মীয় নেতারা এসব পদক্ষেপকে কিভাবে দেখবেন? যাদের সমর্থনের উপরে আল সৌদ পরিবার অনেকটাই নির্ভরশীল।

ক্ষমতা করায়ত্ত করার এসব প্রচেষ্টা আর নারীদের গাড়ি চালনার অনুমতি দেয়ার মতো বিষয়গুলো তারা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমা ধাপের বিনোদন, সিনেমা হল চালুর মতো বিষয়গুলো তারা কিভাবে নেবেন, তা পরিষ্কার নয়।

বিশেষ করে তরুণদের চাকরির যেসব প্রতিশ্রুতি যুবরাজ সালমান দিয়েছেন, তার রক্ষা করাও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শনিবারের এসব পদক্ষেপ কি উন্নত, স্বচ্ছ সৌদি আরবের দিকে নিয়ে যাবে , নাকি দেশটিকে আরো জটিলতার দিকে ঠেলে দেবে, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

সৌদি আরবে ১৯ টি পেশার আকামা আর হবে না ?

ঠিক এরকমই প্রশ্নবোধক দিয়ে শুরু হচ্ছে খবরটি । বিভিন্ন প্রবাসভিত্তিক ইংরেজি পেইজেও ইতিমধ্যে সংবাদটি এসেছে ।এটি, কেবলই প্রশ্নবোধক এখন পর্যন্ত । অর্থাৎ এখনও কার্যকরী হয়নি এই আইন । একটি প্রস্তাবনা এসেছে মাত্র । হলে তখন নির্ভরযোগ্য সোর্সেই খবর প্রকাশিত হবে ।

অনেক প্রবাসী বন্ধু ইতোমধ্যেই এই খবরে অস্থির হয়ে উঠেছেন । আদতে যে পেশাগুলোর তালিকা এসেছে, তা বাংলাদেশী প্রবাসীদের ক্ষেত্রে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা কম, যদি আইনটি কার্যকরী হয়ও।

সব বাকালাতে সৌদি বসাতে হবে এরকম একটি কথা যেমন বাজারে চালু হয়ে গেছে, তবে বাস্তবে এখনও কার্যকর হয়নি, এটিও তেমনই একটি সম্ভাবনা মাত্র ।তো কার্যকরী না হবার আগেই অস্থির হয়ে নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না ।

যদি এই পেশাগুলোর মধ্যে আপনি পড়েও যান, আপনি নিশ্চয় বিশ্বাস করেন- রিজিক মিন আল্লাহ । আল্লাহ আপনার রিজিকের ব্যবস্থা করবেন অন্য কোথাও । নিশ্চয় করবেন ।এই বিশ্বাসে অনড় থাকাই ঈমানদারের কাজ । আল্লাহ আমাদের সবার মঙ্গল করুন ।

১৯ টি পেশার তালিকা নিচে দেয়া হলো–

Accountant-একাউন্টেন্ট, Secretary–সেক্রেটারি, Salesman-বিক্রয়কর্মী, Administrator-প্রশাসক, Sales Manager- বিক্রয় ব্যবস্থাপক, Sales Supervisor- সেলস সুপারভাইজার, Finance Manager -অর্থ ব্যবস্থাপক, Chief Accountant–প্রধান হিসাবরক্ষক, Senior Accountant- সিনিয়র হিসাবরক্ষক, Office Manager—– অফিস ব্যবস্থাপক, Sales Assistant — বিক্রয় সহকারী, Administration Manager- প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক,

Office Boy- পিয়ন., Driver–ড্রাইভার, Receptionist-রিসেপসনিষ্ট, Warehouse Manager—–গুদাম ম্যানেজার, Forklift Operator–ফর্ক্লীপট অপারেটর, Logistics Supervisor—— লজিস্টিক সুপারভাইজার, Human Resource Manager–মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক, তথ্যসূত্রঃ আমরা সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশী

Check Also

মুখ ফিরিয়ে নিলেন আত্মীয়স্বজন, হিন্দু বৃদ্ধের সৎকার করলেন মুসলিম যুবকরা

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় ভারতের বুলন্দশহরের বাসিন্দা রবিশংকরের। অথচ প্রতিবেশীরা মনে করেন করোনা সংক্রমণের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin