জাতীয় সরকার নিয়ে হঠাৎ আলোচনা কেন?

প্রথমে জাতীয় সরকারের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছিলেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এর কয়দিন পরই আবার জাতীয় সরকারের দাবি উচ্চারণ করলেন জেএসডি নেতা আসম আব্দুর রব।

জাতীয় সরকারের এই দাবি নতুন করে রাজনীতির মাঠে নিয়ে আসার কারণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। এটি  কি নিছক একটি রাজনৈতিক বুলি নাকি এর পেছনে কোনো সুগভীর রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে। 

বাংলাদেশে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশের বেশি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এখনো আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনা করছে তিন বছর পার হয়ে গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো দু’বছর বাকি। দেশের সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে।

সরকার বড় ধরণের কোনো চাপে নেই। যে সমস্ত টুকটাক অস্বস্তি, ব্যর্থতা, সমালোচনা, সেটি সব সরকারের থাকে। তাই এমন কোনো জাতীয় সংকট তৈরি হয়নি যে একটি জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। কিন্তু জাতীয় সরকারের দাবি কেন উচ্চারণ করা হচ্ছে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনায় দুই রকমের মতামত পাওয়া গেছে। 

অনেকেই মনে করছেন যে, জাতীয় সরকারের দাবিটি উচ্চারিত হচ্ছে মূলত সরকার বিরোধী আন্দোলনের একটি অংশ হিসেবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে একটু বেকায়দায় পড়েছে। সে কারণেই সরকারকে কোণঠাসা করার অস্ত্র হিসেবেই জাতীয় সরকারের ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে।

সাম্প্রদায়িক ইস্যু, করোনা মোকাবেলায় নানা রকম সংকট, অর্থনৈতিক সংকট, অভিবাসীদের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ইত্যাদি মোকাবেলায় অনেক রাজনৈতিক দল মনে করছে যে সরকার যথাযথ  ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এ জন্য জাতীয় সরকারের ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে। এই কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হল সরকারকে চাপে ফেলা এবং আস্তে আস্তে সরকার বিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করা। 

তবে কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, জাতীয় সরকারের দাবি নতুন করে সামনে নিয়ে আসার পেছনে একটি সুগভীর রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং উদ্দেশ্য রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়েছে যে তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আগামী কোনো নির্বাচনে যাবে না।

নতুন করে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উত্থাপন করেছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা কি হবে, না হবে, ইত্যাদি ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ২০১৪ সালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেমন আগ্রহ ছিল, এখন সে আগ্রহ নেই।

বিশেষ করে ২০১৮ সালে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিটি মৃতপ্রায়। এরকম অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে জাতীয় সরকারের দাবিকে কোনো কোনো মহল জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল।

সেখানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে স্বরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়ারও সুপারিশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিএনপি সে দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এখন বিরোধী দলগুলো ভালোমতেই জানে যে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সরকারের দাবিটি একটি অবাস্তব দাবি হিসেবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিবেচিত হবে এবং আওয়ামী লীগ জাতীয় সরকারের দাবি কখনোই মেনে নেবে না।

এ রকম পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে সামনে রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে জাতীয় সরকারের দাবিকে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিরোধী দলগুলো আন্দোলনে যাবে, তখন আওয়ামী লীগ একটি মাঝামাঝি জায়গায় এসে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে রাখবে। সেই লক্ষ্য রেখেই জাতীয় সরকারের দাবিকে জনপ্রিয় করা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন।

সূত্রঃ বাংলা ইনসাইডার

Check Also

ফখরুলের প্রতি সিনিয়র নেতাদের অনাস্থা

বিএনপি যখন নতুন করে আন্দোলন শুরু করার কথা ভাবছে এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin