khaleda_tareq-45645

খালেদা এবং তারেককে নিয়ে বিএনপির নতুন উৎকণ্ঠা

একদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি বিদেশ নিতে চায়। অন্যদিকে তারেক জিয়ার দেশে ফেরা ঠেকাতে চায়। আর ব্যক্তিগত দুই ইস্যুতেই বিএনপি এখন অস্থির হয়ে পড়েছে। উৎকণ্ঠিত বিএনপির নেতারা।

যদি বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে না পারেন, তাহলে যেমন আন্দোলন করা হবে না, তেমনি তারেককে যদি সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সফল হয়, তাহলে বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যাবে। কাজেই বিএনপির রাজনীতি, তাদের আদর্শ এবং নীতি জনসমর্থনের উপর নির্ভরশীল নয়।

বিএনপির রাজনীতি এখন পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে খালেদা এবং তারেক জিয়ার ভবিষ্যতের উপর। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বলে মানছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। 

বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলাপচারিতায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আমরা যখনি আন্দোলনের চেষ্টা করছি, তখনি সরকার তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে। ফলে আতঙ্কিত তারেক জিয়া এবং তার পরিবার আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন।

আবার খালেদা জিয়াকে দেশে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে এক দফা আন্দোলন অবাস্তাব ব্যাপার। কারণ এর ফলে সরকার যে খালেদা জিয়াকে বাইরে রাখার যে ছাড় দিয়েছে, সেই ছাড় প্রত্যাহার করে ফেলতে পারে। ফলে আপাতত বিএনপি হাত-পা গুটিয়ে থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ এই দুই ইস্যুতে অপেক্ষা করা ছাড়া বিএনপির হাতে কোনো কিছুই নেই। 

বেগম খালেদা জিয়া যেকোনো মূল্যে বিদেশে যেতে চান। আর এ কারণেই তার বায়োপসি রিপোর্ট দুটি দেশে পাঠানো হয়েছে এবং ঐ দুটি দেশ থেকে যদি খালেদা জিয়াকে যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করা হয় তাহলে পরে বেগম জিয়ার পরিবার সরকারের কাছে আবার বিদেশ যাওয়ার জন্য আবেদন করবেন।

কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া, না যাওয়াটা কোনোভাবেই সরকারের উপর নির্ভরশীল নয়। কারণ বেগম জিয়া যে মামলাগুলোতে দণ্ডিত হয়েছেন, সে মামলার বাদী হল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যা একটি স্বাধীন সংস্থা। কাজেই সরকার চাইলেই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিতে পারে না।

তাছাড়া, খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে তারেক জিয়া লন্ডনেই থাকতে চান। তিনি এই অবস্থায় দেশে ফিরতে চান না। বিএনপির নেতারা বলেছেন, তারেক জিয়া তাদেরকে জানিয়েছেন যে দেশে যদি একটি ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’ হয়, তাহলে পরে তিনি দেশে ফিরতে পারেন।

কিন্তু এই ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’ কবে হবে এবং কিভাবে তিনি দেশে ফিরবেন, সেটি নিয়ে বিএনপির মধ্যেই নানা রকম জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। বিএনপির নেতারা তারেক জিয়ার সম্পর্কে এখন অতিষ্ঠ মনোভাব পোষণ করছে। তারা বলছেন, তিনি লন্ডনে বসে হুকুম দিচ্ছেন, হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। কিন্তু নিজে কোনো ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন না।

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি স্কটল্যান্ড সফরের সময় প্রবাসীদের সঙ্গে নাগরিক সমাবেশে বলেছেন, তার (তারেক জিয়া) যদি সাহস থাকে দেশে আসুক। রাজনীতি করতে গেলে সাহসের দরকার হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির নেতৃবৃন্দ একমত প্রকাশ করেছেন।

তারাও মনে করেন, তারেক যদি রাজনীতি করতে চায়, বিএনপিকে যদি ক্ষমতায় আনতে চায়, বা সরকার পতন ঘটাতে চায়, তাহলে তার দেশে আসার বিকল্প নেই। কিন্তু তারেক জিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি দেশে আসবেন না। ফলে তারেক জিয়াকে দেশে নিয়ে আসার চেষ্টাকে সরকারের দৃশ্যমান এবং কার্যকর করতে চায়।

এর ফলে একদিকে যেমন তারেক জিয়ার লন্ডনে কোণঠাসা হয়ে পড়বেন, অন্যদিকে বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতির উপর একটি বড় ধরণের চাপ পড়বে। ফলে, সরকার বিরোধী আন্দোলন এবং তীব্র গণ-আন্দোলনে যে সমস্ত হুমকি বিএনপি দিয়েছিল, তা থিতিয়ে পড়বে।

বিএনপি মনে করছে যে, খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া যেমন তাদের দলের জন্য সম্পত্তি, তেমনি তাদের এ দুজনের কারণে বিএনপি এখন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। তারা না পারছে আন্দোলন করতে, না পারছে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে। তারেক জিয়া এবং খালেদা জিয়ার ইস্যুতেই বিএনপি যেন এখন বন্দি হয়ে আছে।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Check Also

ফখরুলের প্রতি সিনিয়র নেতাদের অনাস্থা

বিএনপি যখন নতুন করে আন্দোলন শুরু করার কথা ভাবছে এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin