Tuesday , July 23 2019

বিএনপির লক্ষ্য স্বল্পমেয়াদি আন্দোলন গড়ে তোলা

কারাগারে আদালত বসিয়ে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মামলার বিচার, ২১ আগস্ট মামলার রায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকায় বড় জনসভার পর সারা দেশে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে মাঠের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলটি সারা দেশে দুই দিনের মানববন্ধন ও প্রতীক অনশন কর্মসূচি দিয়েছে।

বিএনপির সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে দলটি আরও কর্মসূচি দেবে। দলটির লক্ষ্য নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে স্বল্পমেয়াদি আন্দোলন গড়ে তোলা। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনপি। নেতাদের দৃষ্টিতে, এ মুহূর্তে মাঠের কর্মসূচি ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকার বিএনপিকে সংগঠিত হতে দিতে চায় না-এটা মাথায় রেখেই তাদের এগোতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে, নতুন করে ‘মিথ্যা’ মামলা দেওয়া হচ্ছে।

দলটির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে সরকার নানা কূটকৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। এর মধ্যে কারাগারে আদালত বসিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারও শেষ পর্যায়ে। উভয় মামলায় বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজা হলে এর রাজনৈতিক সুবিধা পাবে সরকারি দল।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পেয়ে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, গণ-অনশনসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ সেপ্টেম্বর মহানগর ও জেলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রতীক অনশন হবে। ঢাকায় মানববন্ধন হবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। আর প্রতীক অনশনের জন্য রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ও গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ঘটনা না ঘটলেও পুলিশ বিভিন্ন থানায় আগাম মামলা করে রেখে হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গত সোমবার ও মঙ্গলবার-দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক শ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেসব বিএনপি নেতা দেশে নেই বা পবিত্র হজ পালনে গেছেন, তাঁদের অনেকের নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে। এ সময় ঢাকা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা, নাটোর, বরিশাল, নরসিংদী, বগুড়া, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ ও খুলনায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা ও গ্রেপ্তারের চিত্র তুলে ধরা হয়।

দুই দিনে গ্রেপ্তার ও মামলা
নাটোরে সোমবার রাতে বড়াইগ্রাম পৌর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মজিদ সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক সরকার, ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদত হোসেনসহ আটজন নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত আলীসহ ২৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে ছয়জন। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় ১৩ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার এবং ৩০০ জনের নামে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ছাড়া ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী, মীর নেওয়াজ আলী, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মীর আশরাফ আলী, এস এম আবদুল আজিজ, সাবেক কমিশনার মোশাররফ হোসেনসহ ৩৬ জন নেতা-কর্মীর নামে, বগুড়ায় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খানসহ ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজাসহ ৩০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

পুলিশের এই গ্রেপ্তার অভিযান সরকারের অজানা আতঙ্ক থেকে বলে মনে করেন বিএনপির নেতারা। তাঁরা বলছেন, পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুই দিনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি শেষে পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.