Tuesday , June 25 2019

সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নিহত?

গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রাজ প্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির ঘটনায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিহত হওয়ার গুঞ্জন এখন সর্বমহলে। সম্প্রতি তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হওয়ার পরই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তেহরানের গণমাধ্যম দাবি করে, ওই ঘটনার পর থেকে যুবরাজকে জনসম্মুখে দেখা না যাওয়ায় তিনি হয়ত নিহত হয়েছেন।

তারা গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ওই দাবি করেছে, অন্তত দুই রাউন্ড গুলিতে প্রাণ গেছে যুবরাজের। অবশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘটনার পর থেকে যুবরাজের ‘রহস্যজনক’ অনুপস্থিতির কারণেই এমন আলোচনা তোলার সুযোগ পেয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।

এর আগে, সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, গোলাগুলির সময় নিরাপত্তাবাহিনী সালমানকে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর কোথাও দেখা যায়নি। তবে, সালমানকে নিয়ে এতো আলোচনার পরও সৌদি কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি।

এমনকি ইরানি মিডিয়া প্রেসটিভি ও ফার্সি মিডিয়া, ফার্স ও খিহানের উল্লেখ করে স্পুটনিক বলছে, গত মাসে সৌদি আরবে যে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল তখন ক্রাউন প্রিন্স নিহত হয়ে থাকতে পারেন। এমনকি এধরনের অভ্যুত্থানের সময় সৌদি বাদশাহ সালমান একটি সামরিক বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

রিয়াদে রাজপ্রাসাদের কাছে একটি ড্রোন উড়তে দেখে তা গুলি করে নামানো হয় বলে সৌদি মিডিয়াগুলো এর আগে খবর দিয়েছিল। ক্রাউন প্রিন্সকে সে সময় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এক সৌদি বিশ্লেষক আল-আহমেদ দাবি করছেন। তবে সৌদি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, ওই ঘটনার সময় বাদশাহ সালমান রাজপ্রাসাদে ছিলেন না।

গত ২১ এপ্রিলে ওই অভ্যুত্থানের সময় ক্রাউন প্রিন্সের শরীরে দুটি গুলি লাগে। এ খবর গোয়েন্দাদের মাধ্যমে আরেকটি আরব দেশকে জানানো হয়। সাধারণত ক্রাউন প্রিন্স প্রায়শ মিডিয়ার সামনে আসেন কিন্তু গত ২৭ দিন ধরে তিনি জনসমক্ষে আসছেন না।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে যখন সৌদি আরব সফর করেন তখন ক্রাউনপ্রিন্সকে দেখা যায়নি। এসব ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের বক্তব্য রাখেননি।

সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে ক্রাউন প্রিন্সকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না কেন? ইরানি মিডিয়াগুলোতে এ নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রের উল্লেখ না করলেও বেশ কিছু তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হচ্ছে সৌদি যুবরাজ নিহত হয়েছেন।

প্রেস টিভিতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। যদিও খবরে বলা হচ্ছে, যুবরাজ সালমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদির বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইরের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি ছাড়া ক্রাউন প্রিন্সের কোনো ছবি প্রকাশিত হয়নি।

কিছু সূত্র দাবি করেছে, সৌদি রাজপরিবারের যেসব সদস্য বাদশা সালমানের বিরোধী তারাই ২১ এপ্রিল হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ২২ এপ্রিল আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ২১ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের রাজপ্রাসাদে হঠাৎ গোলাগুলির ঘটনায় দেশটিতে অভ্যুত্থান চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিকট গুলির শব্দ নানা গুঞ্জনের জন্ম দেয়। পরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করে, গুলি করে একটি ড্রোন নামানো হয়েছে। ড্রোনটি খেলনা বলে চিহ্নিত করেছে তারা।

এদিকে, এ আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বেঁচে আছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি দৈনিক আল রিয়াদ। টুইটারে মিসরের প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল সিসি, আবুধাবি ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে যুবরাজের ছবি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি। তবে ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায়, শঙ্কা কাটছে না মোহাম্মদ বিন সালমানের ভবিষৎ নিয়ে। এদিকে, মোহাম্মদ বিন সালমানের মৃত্যু নিয়ে অপপ্রচারের সমালোচনা করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নিহত?

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালামানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল দুটি ইরানি মিডিয়ার বরাতে বলছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি জনসমক্ষে আসছেন না।

এমনকি ইরানি মিডিয়া প্রেসটিভি ও ফার্সি মিডিয়া, ফার্স ও খিহানের উল্লেখ করে স্পুটনিক বলছে, গত মাসে সৌদি আরবে যে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল তখন ক্রাউন প্রিন্স নিহত হয়ে থাকতে পারেন। এমনকি এধরনের অভ্যুত্থানের সময় সৌদি বাদশাহ সালমান একটি সামরিক বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

রিয়াদে রাজপ্রাসাদের কাছে একটি ড্রোন উড়তে দেখে তা গুলি করে নামানো হয় বলে সৌদি মিডিয়াগুলো এর আগে খবর দিয়েছিল। ক্রাউন প্রিন্সকে সে সময় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এক সৌদি বিশ্লেষক আল-আহমেদ দাবি করছেন। তবে সৌদি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, ওই ঘটনার সময় বাদশাহ সালমান রাজপ্রাসাদে ছিলেন না।

গত ২১ এপ্রিলে ওই অভ্যুত্থানের সময় ক্রাউন প্রিন্সের শরীরে দুটি গুলি লাগে। এ খবর গোয়েন্দাদের মাধ্যমে আরেকটি আরব দেশকে জানানো হয়। সাধারণত ক্রাউন প্রিন্স প্রায়শ মিডিয়ার সামনে আসেন কিন্তু গত ২৭ দিন ধরে তিনি জনসমক্ষে আসছেন না।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে যখন সৌদি আরব সফর করেন তখন ক্রাউনপ্রিন্সকে দেখা যায়নি। এসব ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের বক্তব্য রাখেননি।

সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে ক্রাউন প্রিন্সকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না কেন? ইরানি মিডিয়াগুলোতে এ নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রের উল্লেখ না করলেও বেশ কিছু তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হচ্ছে সৌদি যুবরাজ নিহত হয়েছেন।

প্রেস টিভিতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। যদিও খবরে বলা হচ্ছে, যুবরাজ সালমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদির বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইরের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি ছাড়া ক্রাউন প্রিন্সের কোনো ছবি প্রকাশিত হয়নি।

কিছু সূত্র দাবি করেছে, সৌদি রাজপরিবারের যেসব সদস্য বাদশা সালমানের বিরোধী তারাই ২১ এপ্রিল হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ২২ এপ্রিল আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ২১ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের রাজপ্রাসাদে হঠাৎ গোলাগুলির ঘটনায় দেশটিতে অভ্যুত্থান চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিকট গুলির শব্দ নানা গুঞ্জনের জন্ম দেয়। পরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করে, গুলি করে একটি ড্রোন নামানো হয়েছে। ড্রোনটি খেলনা বলে চিহ্নিত করেছে তারা।

নিহত গুঞ্জনের মাঝেই সিসির সাথে মুহাম্মদ বিন সালমানের ছবি প্রকাশ

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানকে প্রকাশ্যে আসা ছেড়ে দিয়েছেন বা নিহত হয়েছেন এমন গুঞ্জনের মাঝেই ক্রাউন প্রিন্সের ছবি প্রকাশ করলো সৌদি গণমাধ্যম আর রিয়াদ। তবে ছবিটি কোথায় কখন তুলা হয়েছে এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। আর রিয়াদ সংবাদপত্র তাদের টুইটারে ছবিটি প্রকাশ করে। এর আগে ছবিটি কোথাও প্রকাশ হয়নি। খবর: জিও নিউজ উর্দু

ছবিতে তাকে মিশরের সেনা শাসক আব্দেল ফাত্তাহ আস সিসি ও বাহরাইনের বাদশাহ হামদ বিন ঈসা আল খলিফার কাধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় বিন সালমান ক্যাপ পরিহিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আরব আমিরাতের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন জায়েদও ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালামানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল দুটি ইরানি মিডিয়ার বরাতে বলছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি জনসমক্ষে আসছেন না। এমনকি ইরানি মিডিয়া প্রেসটিভি ও ফার্সি মিডিয়া, ফার্স ও খিহানের উল্লেখ করে স্পুটনিক বলছে, গত মাসে সৌদি আরবে যে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল তখন ক্রাউন প্রিন্স নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

এমনকি এধরনের অভ্যুত্থানের সময় সৌদি বাদশাহ সালমান একটি সামরিক বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। রিয়াদে রাজপ্রাসাদের কাছে একটি ড্রোন উড়তে দেখে তা গুলি করে নামানো হয় বলে সৌদি মিডিয়াগুলো এর আগে খবর দিয়েছিল। ক্রাউন প্রিন্সকে সে সময় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এক সৌদি বিশ্লেষক আল-আহমেদ দাবি করছেন।

তবে সৌদি কর্মকর্তারা রয়টারকে জানান, ওই ঘটনার সময় বাদশাহ সালমান রাজপ্রাসাদে ছিলেন না। গত ২১ এপ্রিলে ওই অভ্যুত্থানের সময় ক্রাউন প্রিন্সের শরীরে দুটি গুলি লাগে। এ খবর গোয়েন্দাদের মাধ্যমে আরেকটি আরব দেশকে জানানো হয়।

সাধারণত ক্রাউন প্রিন্স প্রায়শ মিডিয়ার সামনে আসেন কিন্তু গত ২৭ দিন ধরে তিনি জনসমক্ষে আসছেন না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে যখন সৌদি আরব সফর করেন তখন ক্রাউন প্রিন্সকে দেখা যায়নি। এসব ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের বক্তব্য রাখেননি।

বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন সৌদি যুবরাজ!

সৌদি আরবে প্রথা ভেঙে একের পর এক সংস্কার আনছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, ধর্মীয় সহনশীলতা, নারীর প্রতি উদারতা, তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, আঞ্চলিক রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা ইসরায়েলের সঙ্গে হঠাৎ মৈত্রী, শত্রু দেশগুলোর প্রতি আরও কঠোরতা প্রদর্শন—এমন একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় তিনি।

সৌদি আরবে বহু বছরের প্রথা ভেঙে নানান সংস্কারের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছেন সৌদি যুবরাজ। প্রশংসা তাঁকে হয়তো আরও বেশি বেশি সংস্কারে উদ্বুদ্ধ করেছে।

তবে এর পরিণাম কি ভেবেছেন কেউ? এভাবে একের পর এক একক সিদ্ধান্ত স্বৈরতন্ত্র ও আঞ্চলিক যুদ্ধের পথ তৈরি করছে না তো! ইয়েমেন যুদ্ধে মানবিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে তাঁকে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার জন্য তাঁর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করা হচ্ছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বর্তমানে সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো শাসক মনে করা হয়। ২০১৫ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর উত্থান ঘটে। গত জুনে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স (পরবর্তী শাসক) ঘোষণা করা হয়।

ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার পর থেকে তিনি একের পর এক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ৩৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায় করে মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আছেন ১১ প্রিন্স, বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিন দশকের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে ১৮ এপ্রিল থেকে দেশটিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু হচ্ছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নতুন সামাজিক চুক্তির কথা বলছেন, যেখানে আগের মতো স্থবির আমলাতন্ত্র থাকবে না।

সৌদি যুবরাজ ৫০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি প্রযুক্তিনির্ভর শহর স্থাপনের পরিকল্পনা কথা বলছেন, যেখানে নারী-পুরুষ অবাধে চলতে পারবে। আগামী জুন মাস থেকে সৌদি নারীরা গাড়ি চালনার অনুমতি পাচ্ছেন। সৌদি নারীরা এই প্রথম মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ পেয়েছেন। একই সময়ে তিনি সৌদির ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা খর্ব করেন। এই পুলিশের অন্যতম কাজ ছিল লোকজন প্রকাশ্যে চলাফেরার সময় নির্ধারিত পোশাক পরছে কি না, বিশেষ করে মেয়েরা, সেটা লক্ষ রাখা। খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের প্রতি আচরণসহ অন্যান্য বিষয়ে গোঁড়ামি কমিয়ে আনা ও আরও সহনশীলতা প্রদর্শন—এমন নীতিও পশ্চিমা বিশ্বে প্রশংসিত হয়।

আরো পড়ুন: মসজিদে নববীতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক তাফসির প্রতিযোগিতা

যুবরাজ সালমান দেশটির প্রতিরক্ষাপ্রধানকে সরিয়ে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে নিয়ে আসেন নতুন ব্যক্তিদের। যুবরাজের মতে, সামরিক বাহিনীর জন্য বাজেটের ক্ষেত্রে সৌদি আরব বিশ্বের চতুর্থ অবস্থানে থাকলেও সেখানে দক্ষ সেনার সংখ্যা অনেক কম।

সৌদি আরব ও ইসরায়েলের কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সম্প্রতি দ্রুতগতিতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটেছে। দুটি দেশই পরমাণু শক্তিধর ইরানকে হুমকি মনে করে। সৌদি আরব ইরানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে নিয়ে বন্ধুর হাত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। গত মাসে ইসরায়েলে প্রবেশে প্রথমবারের মতো কোনো উড়োজাহাজ সৌদি আরবের আকাশ ব্যবহার করতে পেরেছে।

আঞ্চলিক সংকট বৃদ্ধির অভিযোগ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার জন্য গত সপ্তাহে মিশর, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু করেন। ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তাঁকে ইয়েমেন যুদ্ধের কারণে মানবিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করে প্লাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে কিছু সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে।

বলা হয়, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের বড় ধরনের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়েমেনের বেদনাদায়ক পরিণতি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। সেখানে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির লাখ লাখ মানুষ ভয়াবহ খাদ্য সংকটে ভুগছে।

গত সপ্তাহে লন্ডন সফরের সময় একই কারণে সমালোচনার শিকার হন যুবরাজ সালমান। সৌদি আরবের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সমালোচনা করেন কেউ কেউ।

এর আগে মিশর সফরের সময় যুবরাজের এক মন্তব্যকে ঘিরে ফুঁসে ওঠে তুরস্ক। মিশরের কয়েকটি সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে যুবরাজ ইরান, তুরস্ক ও চরমপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘ত্রিভুজ শয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তুরস্ক। পরে অবশ্য তুরস্কে সৌদি দূতাবাস এর ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, যুবরাজ এখানে ‘এই অঞ্চলের কিছু অপশক্তির’ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই অপশক্তি হচ্ছে-মুসলিম ব্রাদারহুড ও ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো।

অবশ্য ওই সফরের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত গালফ নিউজের এক খবরে যুবরাজের প্রতি সমর্থন দিয়ে বলা হয়, আঞ্চলিক অস্থিরতার জন্য দায়ী ইরান। ইরানের মদদে ও রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় রয়েছেন এবং সিরিয়ায় ভয়াবহ যুদ্ধ, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ইয়েমেনেও সহিংসতায় মদদ দিয়েছে ইরান। ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুতি যোদ্ধাদের সরাসরি অস্ত্র দিচ্ছে। সিরিয়া ও ইরাকে সামরিক হস্তক্ষেপ করাসহ লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও নাক গলাচ্ছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে গত নভেম্বরে পদত্যাগ করতে সৌদি যুবরাজ সালমান বাধ্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে যুবরাজ ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, লেবাননে ‘তিনি (হারিরি) এখন আগের চেয়ে ভালো অবস্থায়’ আছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী দেশ কাতারের সঙ্গে গত বছরই সম্পর্কচ্ছেদ করে সৌদি আরব। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে ভূমি, অর্থনৈতিক, সমুদ্রসীমা ও আকাশ সীমার সব যোগাযোগ ছিন্ন করেছে সৌদি আরব। এতে সমর্থন দিয়ে কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন।

যুবরাজ সালমান এখন সৌদি আরবে উপ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের সরকার ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীয়। বেশ কয়েকজন যুবরাজের হাতেই ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। বাদশাহ সবচেয়ে ক্ষমতাবান হলেও একক শাসক নন।

আরো পড়ুন: পুরো আফরিনে উড়ছে তুরস্কের পতাকা

যুবরাজের বয়স্ক বাবা, অসুস্থ বাদশাহর মৃত্যুর পর ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে সালমান ক্ষমতায় বসবেন। অথচ এর আগেই কোনো বাধা ছাড়াই তিনি একের পর এক সিদ্ধান্ত কার্যকর করছেন। তিনি সেসব বিষয়েই সংস্কার আনছেন যা তাঁকে দেশটির একক শাসকে পরিণত করবে। আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সুন্নি-শিয়া বিবাদে আরও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে।

ইরানের প্রতি তিনি দমন নীতি গ্রহণ করেছেন। যদিও যুবরাজের এসব পদক্ষেপ মিশর ও জর্ডানের মতো সুন্নি দেশ, পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন জয় করেছে। তবে এসব ঘটনায় এমন প্রশ্নও উঠে আসে যে, ক্রাউন প্রিন্সের এই আচরণ এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আদৌ অবদান রাখছে কি?

সংস্কারের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা, স্বৈরতন্ত্রের পথে!

ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে যুবরাজ বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও শত্রুর সঙ্গে লড়াইয়ের প্রয়োজনেই সংস্কার আনা হয়েছে। দেশ চালাতে অর্থের প্রয়োজনেই শুদ্ধি অভিযানের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, তিনি খুব বেশি সংখ্যক ইস্যুর মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে যুবরাজের ভাষায়, সফলতা পেতে হলে পরিবর্তন আনতেই হবে। তাঁর মতে, সৌদিতে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সেখানে এমন একটি ধাক্কা দেওয়া দরকার ছিল। নিজ দেশের দুর্নীতিকে ক্যানসারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘আপনার শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে, দুর্নীতি নামক ক্যানসার। আপনাকে কেমো থেরাপি দিতে হবে, তা না হলে ক্যানসার পুরো শরীর খেয়ে ফেলবে।’ লুটের অর্থ ফিরিয়ে না আনলে সৌদি আরব বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে না বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.